বাংলাদেশের খুরমা খেজুর চাষ
দিন বদলের ফসল খোরমা খেজুর
ডা: মনজুর ইকবাল
খেজুর সম্পর্কে একটি আরব দেশীয় প্রবাদ-এক বছরে যত দিন আছে, খেজুরেরও ততটি ব্যবহার আছে।
খেজুরের মতো খুব অল্প উদ্ভিদ আছে,যা কৃষি পণ্যে পরিণত হয়ে মানবজীবনের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। বলা হয়ে থাকে খেজুর না থাকলে উঞ উষর অঞ্চলে মানবজীবনের বিস্তৃতি হতো না। খেজুর শুধু উপাদেয় শক্তিবর্ধক খাদ্যB নয় খেজুরের ফল ও খেজুর গাছের প্রতিটি অংশB উপকারী ও অথ©করী।পবিত্র কুরআন,বা্Bবেল ও তাওরাতে খেজুরের উপকারিতার উল্লেখ আছে। তাBমুসলমানদের কাছে খেজুর রহমতের ফল হিসাবে পরিচিত। আমাদের দেশে যে খেজুর দেখা যায় তা বুনো বা পাতি খেজুর। বুনো খেজুরের বীজ থেকে সহজেB চারা গজায় তা্B তো তা আমাদের দেশে দেখা যায়। জাত খেজুর বা খোরমা খেজুরের বীজ থেকে সহজে চারা হয় না বলে আমাদের দেশে জাত খেজুরের বিস্তৃতি হয়নি এবং খেজুর চাষ যে বহুমুখি অথ©করি তা কখনো কেউ বিবেচনায় আনেনি। আমাদরে সবার একটি বদ্ধমূল ধারণা খেজুর মরুর দেশের ফসল আসলে ধারণাটি সত্য নয়, খেজুর উÂমন্ডলীয় ফল এবং মরুর দেশের থেকে আমাদের দেশে খোরমা খেজুরের ফলন অধিক হবে এবং ফলের মান উন্নত হবে। কারণ আমাদের দেশে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় পানির অভাব নেB।
আরব বণিক ও আরব থেকে আসা Bসলাম প্রচারকদের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ প্রথম খোরমা খেজুরের সাথে পরিচিত হয়েছিল। কিন্তু বীজ থেকে চারা গজাতে ব্যথ© হয়ে এ অÂলের মানুষ ধরে নিয়েছে এ মরুর দেশের ফল। খেজুরের দেশ বলে পরিচিত মরুর দেশগুলোতে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষে খেজুর চাষের জন্য বীজ থেকে চারা করে না। বীজ থেকে চারা করলে তার অর্ধেক নর আর অর্ধেক নারী গাছ হয়।মরুর দেশে একটি গাছ বড় করতে মানুষকে অনেক যত্ন নিতে হয়। কিন্তু যে গাছ থেকে ফল হবে না তার জন্য এত শ্রম দিয়ে কি লাভ? তাB তারা (Offshoot)থেকে চারা করে। জাত খেজুরের একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট হলো তার কান্ড থেকে বছরে বেশ ক’টি চারা গজায় যেগুলিকে অফসুট বা তেউর বলে।পুরুষ খেজুর গাছের গোড়া থেকে গজানো সবগুলো তেউর চারা গুলোর প্রতিটি চারাB পুরুষ গাছ হবে এবং স্তী বা মাদি খেজুর গাছের গোড়া থেকে গজানো প্রতিটি তেউর চারা গাছগুলো সবকয়টি এক একটি মাদি খেজুর গাছ হবে। পরাগয়নের জন্য ৪০-৫০ টি মাদি গাছের জন্য বাগানে একটি/দুBটি নর গাছ লাগায় এতে নারী (ফল দায়ী) গাছের সংখ্যা বেশি থাকায় ফসল বেশি পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে খোরমা খেজুর চাষের বিস্তৃতি লাভ না করার কারণ :
খোরমা খেজুরের সাথে এ দেশের মানুষBসলামের আবির্ভাবের সময় থেকেBপরিচিতি হয এবং থেজুরকে পবিত্র ফল মনে করলেও তার বীজ থেকে চারা করতে ব্যথ©হয়। ব্যথ© হয়ে সবাB ধারণা করে নিয়েছে খেজুর মরুর দেশের ফল। চারা সহজলভ্য হলে এ দেশের প্রতিটি বাড়িতে অবশ্যBকয়েকটি খোরমা খেজুরের গাছ দেখা য়েত কারণ,খেজুরের সাথে এ দেশের মানুষের অনেক ধর্মীয় অনুভূতি জড়িয়ে আছে।
খেজুরের প্রকার ভেদ : (Genus-phocnix,Family-palmac)
খেজুর গাছ প্রধাণত দুB প্রকার:১.বুনো বা দেশী খেজুর phoenix Sylvistris
২.জাত খেজুর বা খোরমা (Phoenix dectyleferous)
খেজুর গাছ দুBভাবে বংশবৃদ্ধি করে যেমন-বীজ ও কান্ড থেকে গজানো চারা offshoot থেকে।
পৃথিবীর যেসব অÂলের মানুষ হাজার বছর ধরেB গাছের কান্ড থেকে গজানো চারা দিয়ে খেজুর চাষ করছে তার কারণ ২টা(১) বীজ থেকে চারা করা কষ্টসাধ্য ও সময়সাপে¶ ।(২)অফশুট খেকে বাছাB করে অধিক পরিমাণে ফলদায়ী নারীগাছ লাগানো যায় এবং কম সময়ে ফল পাওয়া যায়। হাজার বছর ধরে offshoot থেকে চারা লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে ওঠায় ও বীজ থেকে চারা করার Traditional পদ্ধতি চর্চা না করার কারনে মরুর দেশেওে এখন বীজের চারা পাওয়া দুস্কর।
গঠন ও লি½ :
জাত খেজুর (খোরমা খেজুর): গাছ ৮০ থেকে ১২০ ফুট পয©ন্ত লম্বা হতে পারে।খেজুর গাছের কোন Taproot থাকে না। এর রয়েছে এক শক্তিশালী ও বিশেষ মূলতন্র্র।গাছের গোলাকৃতি গোড়া থেকে এB শক্ত মূলগুলো পাশে যেতে পারে প্রায় ৫০ ফুট এবং আড়াআড়ি সোজা নিচের দিকে যেতে পারে প্রায় ৬০-৭০ ফুট।এর মূলে রয়েছে বায়ু ধারণ¶ম বড় বড় কোষ তাB এটি তীব্র খরা ও দীঘ© বন্যা সBতে পারে।এটি বাঁচে প্রায় ১০০ বছরের অধিক।যদিও উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে র¶ণাবে¶ণ কষ্টসাধ্য হওয়ায় ৫০ বছরের বয়সের পর ফলন কমে যায়।
আমাদের দেশের তালগাছর মতো খেজুর গাছও নর ও নারীতে বিভক্ত। মজার ব্যাপার হলো খেজুর ফলও নর-নারীতে বিভক্ত। যেমন একB মায়ের গভ© খেকে ভাBবোন হয়।নর ফলের বীজ খেকে নরগাছ আর নারী ফলের বীজ থেকে নারীগাছ হয় কিন্তু ফুল না আসা পয©ন্ত নর ও নারীগাছ চিন্হিত করার সহজ পদ্ধতি এখনো উদ্ভাবিত হয়নি।
খেজুর চাষের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি ও জলবায়ু :
খেজুর গাছ যে কোন প্রকার মাটিতেB হয।খোরমা খেজুর আমাদের দেশের বুনো খেজুরের মতো এটিরও তেমন নিবিড় যত্নের প্রয়োজন হয় না। এটি উÂমন্ডলীয় এলাকার গাছ। খেজুর গাছ দীঘ© খরা দীঘ© বন্যা,তীব্র ঝড় তীব্র ঠান্ডা(-৭ ডিগ্রি সে. থেকে ৫০ ডিগ্রি সে.পয©ন্ত তাপমাত্রা) সBতে পারে। খেজুর গাছ প্রায় ২২০০০ পিপিএম মাত্রার লবণাক্ততা সBতে পারে।
খেজুর চাষে বিশেষ যত্ন :
খেজুর গাছ নর ও নারীতে বিভক্ত। প্রাকৃতিকভাবে পরাগায়নের জন্য একটি নারীগাছের জন্য একটি নরগাছ প্রয়োজন হয়। কিন্তু এতে বাগানের পুরুষ গাছের আধিক্য হয় এবং ফলন অধে©ক হয়ে যায়।তাB খেজুর উrপাদনকারী দেশগুলোর কৃষকরা পরাগায়নের জন্য নর গাছের ফুল শুকিয়ে নারীগাছের ফুলের উপর স্প্রে করে দেয়। এBপদ্ধতিতে একটি নর গাছের ফুল দিয়ে ৪০-৫০টি নারীগাছের পরাগায়ন সন্পন্ন করা যায়।
এতে দ্বিগুন ফলন পাওয়া যায়। আর ফলন বেশী পাওয়ার জন্যB তারা অনিশ্চিত বীজের চারার চেয়ে নিশ্চিত Offshoot চারা উrপাদন করে।
একটি গাছের গড় উrপাদন ¶মতা ও সময় :
একটি জাত খেজুর গাছে গড়ে প্রায় ৮০ থেকে ১৫০ কেজি পয©ন্ত খেজুর ধরে। পরাগয়ান থেকে সন্পুণ© পরিপক্ক হতে খেজুর গাছের সময় লাগে প্রায় ২০০ দিন।বাংলাদেশের প্রথম খেজুর চাষী ভালুকায় মোতালেবের বাগানে বীজ থেকে করা চারা গাছে গড়ে ৪৫ কেজি খেজুর ধরেছে।এ ছাড়া আমাদের মত একBআবহাওয়া বা জলবায়ুর অTল ভারতের তামিল নাডুর নিজাম উদ্দিনের উপকূলীয় বাগানেও প্রতি গাছে প্রায় গড়ে ১৫০ কেজির বেশী খেজুর ধরেছে।
খেজুর চাষের অথ©করী দিক:
খেজুর ও খেজুর গাছের প্রতিটি অংশBমানুষের উপকারী আর তাB পবিত্র কুরআন, বাBবেল ও তাওরাতে এB খেজুরের উল্লেখ আছে।পবিত্র কুরআনের প্রায় ২০ জায়গায় উল্লেখ আছে খেজুর ও খেজুর গাছের।মহানবী সা:-এর হাদিসেও উল্লেখ আছে খেজুরের।
খেজুরের প্রধান প্রধান অথ©করী দিক:
১. ফল: খেজুরB একমাত্র ফল যা সাভাবিকভাবে ৩-৫ বছর সংর¶ণ করা যায় আর তাB বিকল্প খাদ্য হিসাবে খেজুরের গুরত্ব অপরিসিম।
২. চিনি: খেজুর ফলে৬০-৭০শতাংশ চিনি থাকে তাB খেজুর পরিশোধন করে চিনি উrপাদন করা যায়।
৩. রস(Sap): নারী ও পুরুষ উভয় প্রকার খেজুর গাছ থেকে রস sap আহরণ করা
যায়।ক.রাব,খ.গুড়,গ.চিনি,ঘ.wine.O.Alchhol,P.Acetic acid বা ভিনিগার (প্রাকৃতিক)।
৪.কাগজ: খেজুর গাছের পাতা বিভিন্ন প্রকার মন্ড় ও কাগজ তৈরির এক উত্তম উপকরণ।কারণ এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার আলফা সেলুলোস৫০-৫০%)ও হেমিমেলুলোস(২৬-৩০%)এর আঁশের র্দৈঘ্য১.২৫ মি. থেকে২.৫ মি.পয©ন্ত হয়।তাBখেজুর পাতা দিয়ে কাগজ তৈরিতে কোন প্রকার সিন্থেটিক পলিমার যোগ করার প্রয়োজন হয় না।এB কাগজ ১০০% পরিবেশ বান্ধব।
৫.মাটি¶য় রোধ : খেজুর গাছের রয়েছে প্রকান্ড মূলতন্ত্র যা সোজা ও আড়াআড়িভাবে প্রায় ৫০ ফুট এবং মাটির গভীরে যায় ৭০ ফুট পাশাপাশি অনেক খেজুর গাছ থাকলে সেগুলোর মূল মাটির গভীরে পরস্পর আড়াআড়িভাবে এক ধরণের জাল সৃষ্টি করে, যা মাটি ধরে রাখতে সহায়তা করে।
৬.ঝড় ও জলোচ্ছাস প্রতিরোধ: বিশাল ও মজবুত মূলতন্ত্রের কারণে খেজুর গাছ তীব্র ঝড় প্রতিরোধ করতে পারে।ঝড়ের তীব্রতা কমাতে উপকুলীয এলাকায়,খেজুরের বনাÂল সৃষ্টি করে সিড়র,আBলা Bত্যাদির মতো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা অনেক কমিয়ে ফেলা সন্ভব।সন্প্রতি যুক্তরাষ্টের `w¶bফ্লোরিড়ার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ঘূণিঝড় হারিকেন এন্ডিD। সেখানে তীব্র ঝড়ের পর যে কটি গাছ দাঁড়িয়ে ছিল তার প্রায় সব গুলোBছিল পাম জাতীয় গাছ এবং তার অন্যতম ছিল খেজুর গাছ।
৭. মরুকরণ প্রতিরোধ: অন্য যেকোন গাছের তুলনায় খেজুর মাটির গভীর থেকে অধিক পরিমাণে পানি শোষণ করে ওপরে তুলে আনে বলে পানির স্তর নিচে নামতে পারে না।
৮.খেজুর দিয়ে বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য তৈরি করা যায়: যেমন -Date bar mix. Date Cookies, Date bread. Date Cookies. Date jam. Date Banana Chutney. Date Sweet prickly. Date past. Date syrup. Date molasses.
৯.খেজুরের বীচি গুড়া করে Poultry ও Cattle feed হিসাবে ব্যবহার করা যায় ও খেজুরের বীজ থেকে Oxalic olid তৈরি করা যায়।
১০.খেজুরের পাতা ও গাছের আরো রয়েছে অনেক Traditional and religious useযেমন - পাতা দিয়ে বিভিন্ন প্রকার কুটির শিল্প সামগ্রী তৈরি করা হয়,গৃহস্থালি কাজে ডগাBত্যাদি ব্যবহার করা হয়,বিয়ে শাদী ও রমজানের সময় খেজুর দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
খেজুরের খাদ্য গুণ: ১.খেজুরের প্রায় শতকরা ৮০ ভাগB Sugar (sucrose,fructose,glucoseএর মিশ্রন,যাInstant Encrgy দেয়।
২.খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমানেVitamin,Iron,Potassium.Calcium.Mangancsc .Copper.Vitamin k.Vitamin B complex Bত্যাদি।
৩.খেজুর Fiber rich বলে intestine থেকেLDL cholesterol শোষণে বাধা প্রদান করে।খেজুরের Fiber Intestine -এর mucous membrane বিভিন্নভাবে Cancer Bত্যাদি থেকে i¶v করে।
৪.খেজুর Tanin নামক antioxidant আছে যা anti - infectivc ও anti-inflamatory ও anti-hemorrhagic হিসাবে কাজ করে।
৫.খেজুর Laxative হিসাবে কাজ করে কোষ্টকাঠিন্য দূর করে।
বাংলাদেশে খেজুর গাছ কোথায় কোথায় লাগানো যেতে পারে?
১.বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের বসতবাড়ির আসেপাশে,পুকুড় পাড়ে,অন্যসব জায়গায় যেখানে রোদ আছে।
২. সব রাস্তার পাশে।
৩.ধান খেতের আBলে।
খেজুর গাছ ২০-২২ ফুট দূরে দূরে লাগাতে হয়।তাB এB গাছ ঘন ছায়া সৃষ্টি করে না এবং পাতা ঝরে না এবং ওপরিভাগের শিকড় চাষের সাথে উঠে যায় না। বাংলাদেশের অনেক জাযগায়†¶তের আBলে Gখনো দেশী খেজুর গাছ দেখতে পাওয়া যায়,যা †¶তের অন্য ফসলের কোন ¶তি করছে না।মনে রাখা প্রয়োজন আমাদের দেশী খেজুর ও খোরমা খেজুর একB চরিত্রের । বন্যায় বা অনাবৃষ্টিতে বা ঝড়ে ফসলের ¶তি হবে না। একজন কৃষকের চারটি খেজুর গাছ থাকলে বছরে সে কমপ†¶ ৬০০ কেজি খেজুর পাবে যা সংর¶ণ করে সারা বছর ব্যবহার করতে পারবেন।
৩.নদী/বাঁধের ভা½ন রোধকল্পে নদী বা বাঁধের ভেতর ও বাBরের অংশে বহু স্তর খেজুর গাছ লাগিয়ে নদীভাংগন বহুলাংশে রোধ করা সন্ভব।
৪.Eপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় যেখানে অন্যকোনো গাছ হয় না সেখানে খেজুর গাছ লাগিয়ে প্রচুর ফসল পাওয়া যেতে পারে একBসংগে মাটি ¶য়রোধ হবে ও ভূমি Eদ্ধার হবে।
৫.নতুন জেগে ওঠা চরে খেজুর গাছ লাগালে মাটি ¶য়রোধ হবে ও প্রচুর ফলন পাওয়া যাবে।
৬.বাংলাদেশের হাজার হাজার একর বন্যভূমি থেকে জাতি কোনো প্রকার খাদ্য পায় না অথচ বণ বিভাগের সব বনে লাখ লাখ খেজুর গাছ লাগানো সন্ভব এবং ও্B সব খেজুর গাছ থেকে জাতি সহজে সংর¶ণয়োগ্য লাখ লাখ টন খেজুর পেতে
৭. আমাদের সুন্দরবনের ফলদ বৃ¶ নেBবললেB চলে।ফলদ বৃ¶ না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ লবণাক্ততা।খোরমা খেজুর গাছের লবণাক্ততা সBবার শক্তি অনেক বেশী (২২০০০ পি পি এম) তাB সুন্দরবন অÂলে খেজুর গাছ লাগিয়ে আমরা খাদ্যসহ অন্যান্যভাবে উপকৃত হতে পারি।
৮.পাহাড়ে খেজুর গাছ সহজেB হয় তাBপাব©ত্য অÂলে খেজুর গাছ লাগিয়ে আমরা লাভবান হতে পারি।
৯.Eপকুলীয় এলাকায় খেজুরের বনাÂল সৃষ্টি করে ঝড় ,জলোচ্ছাস ও ভা½ন রোধ করা সন্ভব।
আমাদের কেন বীজের চারা দিয়ে খেজুরর চাষ করতে হবে?
খেজুরের চারা দুB ভাবে পাওয়া যায় ১.বীজ থেকে ২.অফসুট থেকে।বীজ থেকে চারা করলে ৫০ ভাগ নারী ও ৫০ ভাগ পুরুষ হয় কিন্তু অফসুট থেকে বাছাB করে চারা লাগানো যায়।এ ছাড়া বীজের গাছের চেয়ে অফসুট এর গাছে তাড়াতাড়ি ফুল আসে । অফসুট এর চারা দিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে খেজুর চাষ করা প্রায় অসন্ভব ।কারণ আমাদের দেশে পূর্বে থেকে কোন’মা’ খেজুর গাছ নেB। বিকল্প হলো অফসুট চারা আমদানি করা।প্রতি বছর ১ লাখ চারা আমদানি এবং এর আমদানি মূল্য প্রতিটি ১০০ ডলার হলে খরচ হবে ১ কোটি ডলার, এবাবে ১ কোটি গাছ লাগাতে সময় লাগবে ১০০ বছর,খরচ হবে ১০০ কোটি ডলার। যা সব বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য অগ্রহণযোগ্য।
আর যদি বীজ থেকে চারা করে গাছ করি তাহলে ৩০ কোটি চারা করতে আমাদের সময় লাগবে সর্ব্বোচ্চ দুB বছর।প্রতিটি চারার মূল্য ১০০ টাকার কম হবে। এভাবে চাষ শুরু করলে অর্ধেকসংখ্যক গাছ নর হবে এবং ফল পাওয়া যাবে না আর বাকী অর্ধেক নারী হবে এবং ফল পাওয়া যাবে।তাতে অসুবিধা কিছু নেB অর্ধেক নরগাছ থেকে আমরা খেজুরের রস ও অন্যান্য সবB পাবো শুধু প্রথম পাঁচ বছর ব্যাপকভাবে বীজের চারা দিয়ে খেজুর চাষ শুরু করতে হবে,তারপর বীজের চারার আর প্রয়োজন হবে না কারণ তত দিনে গাছগুলো থেকে অফসুট পাওয়া শুরু হবে।
খাদ্য নিরাপত্তা ঝুকি থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের খেজুর চাষ শুরু করা Eচিত।কারণ অব্যাহতভাবে কৃষি জমি হ্রাস পাওয়ার ফলে প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষ নতুন করে খাদ্য নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে। কৃষি জসি হ্রাস পাওয়ার ফলে বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্টির খাদ্য নিরাপত্তা,জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কম©সংস্হান মারাত্বক ঝুকির মধ্যে রয়েছে।এখনB বহুমুখি অথ©করি ফসল খেজুর চাষ শুরু করে আগামী ১০ বছরের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা থেকে বেরিয়ে এসে খাদ্য নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করা সন্ভব।
বাংলাদেশের ভূখন্ড ১,৪৭,০০০ বগ©কিলোমিটার, ২২ ফুট দূরত্বে খেজুর গাছ লাগালে প্রতি একরে ৫০ টি গাছ লাগানো যায় সেB হিসাবে তত্বীয়ভাবে বাংলাদেশে প্রায় ১৮০০ কোটি খেজুর গাছ লাগানো সন্ভব। এখনB মাথাপিছু যদি দু’টি করে খেজুর গাছ লাগানো হয় তা হলে গাছের সংখ্যা হবে ৩০ কোটি।
৩০ কোটি কেজুর গাছ থেকে আমরা কি পাবো তার একটি হিসাব নিচে দেয়া হলো:
৩০ কোটি গাছ লাগালে আমরা আগামী ৭ থেকে ১০ বছর পর থেকে যা পাবো তার একটি হিসাব।(৩০ কোটি বীজের চারা লাগালে তার ১৫ কোটি নর আর ১৫ কোটি নারী হবে)
১.ফল: প্রতিটি নারী গাছে গড়ে ১০০ কেজি খেজুর হলে ১ বছরে পাবো ১ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন।
২.চিনি: খেজুর ফল থেকে চিনি Erপাদন করলে ফলের অর্ধেক পরিমান নিশ্চিত চিনি হবে অর্থাr ৭৫ মেট্রিক টন।
No comments:
Post a Comment